আজান ইসলামের অন্যতম এক শিআর বা নিদর্শন। মুমিন হৃদয়ে আজানের সুমধুর ধ্বনি এক অপার্থিব প্রশান্তি বিলিয়ে দেয়। বিশেষ করে ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যেখানে অল্প দূরত্বে একাধিক মসজিদ থাকে, সেখানে আজানের সময় এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হয়।
আজানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ। তবে অনেক সময় আমরা এক বিড়ম্বনার সম্মুখীন হই, যখন চারপাশ থেকে একসঙ্গে অনেক মসজিদের আজান কানে আসে, তখন কোনটির জবাব দেব? এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি আজানের জবাব দেওয়ার এই দোলাচলের শরীয় সমাধান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
পর্যায়ক্রমে আজান শুনলে করণীয়
শহর বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনেক সময় দেখা যায়, আজানগুলো একেবারে এক সময়ে না হয়ে সামান্য আগে-পরে বা পর্যায়ক্রমে হচ্ছে। মুফতি আবরার বলেন, ‘এক্ষেত্রে বিধান হলো, যে মসজিদের আজান সবার আগে আপনার কানে আসবে, আপনি সেটিরই জবাব দেবেন। তবে কেউ যদি অনেক সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে যত আজান শুনবেন তার সবগুলোরই জবাব দিতে চান, তবে সেটিও জায়েজ। অর্থাৎ চাইলে সবগুলোরই উত্তর দেওয়া যেতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু বাধ্যতামূলকভাবে বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমটির উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট।’
একসঙ্গে একাধিক আজান শুরু হলে নিয়ম
যদি এমন হয় যে, অনেক মসজিদের আজান একেবারে একই সময়ে শুরু হয়েছে এবং সব শব্দ একসঙ্গে আপনার কানে আসছে, তবে এক্ষেত্রে নিজের মহল্লার মসজিদের আজানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থাৎ আপনি সচরাচর যে মসজিদে নামাজ আদায় করেন বা আপনার বাড়ির নিকটবর্তী যে মসজিদটি রয়েছে, সে মসজিদের আজানের জবাব প্রদান করবেন।
মুফতি রেজাউল করীম আবরারের মতে, একসঙ্গে আজান শুরু হলে নিজ মহল্লার মসজিদের আজানের উত্তর দেওয়াই নিয়ম।
সবগুলোর জবাব দেওয়ার সুযোগ
ইসলামে ইবাদতের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। আজানের জবাব দেওয়া যেহেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, তাই সময় ও সুযোগ থাকলে একজন মুমিন তার কানে আসা প্রতিটি আজানেরই উত্তর দিতে পারেন। তবে সাধারণ অবস্থায় বা ব্যস্ততার খাতিরে যদি একটির উত্তর দিতে হয়, তবে পর্যায়ক্রমে শোনার ক্ষেত্রে প্রথমটি এবং একসঙ্গে শোনার ক্ষেত্রে নিজ মহল্লার মসজিদটি বেছে নিতে হবে।
কালবেলা সৌজন্যে
Rezaul Karim Abrar