সিফাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর তাবিল

সিফাতের ক্ষেত্রে তাবিলের কথা বললেই নামধারী সালাফিরা তে*ড়ে আসেন। আলবানি রাহি. তো তাবিল করার কারণে ইমাম বুখারির ঈমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন! মুজাফফারদের মাজহাবে আকিদাভ্র*ষ্টরা সিফাতের তাবিল করে!

আসুন, মুসলিম শরীফের একটি হাদিস পড়ি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إِنَّ للهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي، قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، ………………………يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِي،
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ বান্দাদের বলবেন, হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম। তোমার আমার সেবা করো নি!……….. আমি ক্ষুধার্ত হয়েছিলাম। তোমরা আমাকে খাবার দাও নি। …..মুসলিম: ২৫৬৯।

এখানে আল্লাহ বলেছেন “আমি অসুস্থ হই”! সালাফিদের দাবি অনুযায়ী এ হাদিস অনুযায়ী আমরা আল্লাহর জন্য “অসুস্থ” সিফাত সাব্যস্থ করব! আল্লাহর জন্য ক্ষুধা সিফাত সাব্যস্থ করব? নাউজুবিল্লাহ! অথচ অসুস্থ কিংবা ক্ষুধা আল্লাহর সিফাত সাব্যস্থ করা কুফরি। কারণ, আল্লাহ তাআলা সব ধরণের অপূর্ণতার গুণাবলি থেকে মুক্ত। /

তাহলে আল্লাহ অসুস্থ হওয়া বা ক্ষুধার্ত হওয়ার ব্যাখ্যা কী? আল্লাহ নিজেই বলেন:
قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟
অর্থাৎ আল্লাহ জিজ্ঞাসা করার পর বান্দা বলবে, আমরা কীভাবে আপনার সেবা করব, আপনি পুরো জাহানের রব? আল্লাহ বলবেন, তুমি জানতে না আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তার সেবা করো নি। যদি তুমি তার সেবা করতে, তাহলে তুমি আমাকে তার কাছে পেতে।

এখানে আল্লাহ অসুস্থ হওয়ার তাবিল আল্লাহ নিজেই করেছেন। এখানে আল্লাহ অসুস্থ হওয়ার তাবিল করেছেন বান্দা অসুস্থ হওয়ার দ্বারা। আকিদা বিশেষজ্ঞরা জানি না এবার আল্লাহর দিকে আঙ্গুল তুলবেন কিনা!

“আমাকে কাছে পেতে” এর উদ্দেশ্য কী? ইমাম নববি রাহি. বলেন:
قَالُوا وَمَعْنَى وَجَدْتنِي عِنْدَهُ أَيْ وَجَدْتَ ثَوَابِي وَكَرَامَتِي
অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম বলেনম “তার কাছে আমাকে পেতে” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আমার সাওয়াব এবং কারামত পেতে। আল মিনহাজ: ১৬/১২৫।

আল্লাহকে পাওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সাওয়াব পাওয়া। আকিদার পরিভাষায় এটাকে বলে তাবিল। তাবিল করলেই যদি আকিদা ভ্র*ষ্ট হয়ে যায়, জানি না সালাফি নামধারীরা কতজন ইমামকে আকিদা ভ্র*ষ্ট বলবেন!

 

 

Check Also

আকাবিরদের কলমে ফিকরে দেওবন্দ

দেওবন্দ একটি গতানুগতিক প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। খলিফা উমর রা. এর যুগে ইসলাম এসেছিল ভারত উপমহাদেশে। …

One comment

  1. হযরত নিচের এ-ই বক্তব্যটি কি হাদিস? না কুরআনের আয়াত?
    রেফারেন্স দিলে ভালো হত। جزاك الله خيرا

    তাহলে আল্লাহ অসুস্থ হওয়া বা ক্ষুধার্ত হওয়ার ব্যাখ্যা কী? আল্লাহ নিজেই বলেন:
    قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟
    অর্থাৎ আল্লাহ জিজ্ঞাসা করার পর বান্দা বলবে, আমরা কীভাবে আপনার সেবা করব, আপনি পুরো জাহানের রব? আল্লাহ বলবেন, তুমি জানতে না আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তার সেবা করো নি। যদি তুমি তার সেবা করতে, তাহলে তুমি আমাকে তার কাছে পেতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *